empty
 
 
bd
Support
Instant account opening
Trading Platform
Deposit/Withdraw

10.09.202611:22 ফরেক্স বিশ্লেষণ এবং পর্যালোচনা: মার্কিন-ইরান যুদ্ধ ২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াবে

Relevance up to 08:00 2026-09-11 UTC+00

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন যে, দেশটি আরও তীব্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ভূখণ্ড ও অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তারা পাল্টা হামলার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর হামলার মুখে তেহরান পিছু হটতে রাজি নয়; দেশটির নেতৃত্ব এই সংঘাতকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে, যার ফলে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের সামনে কার্যত আর কোনো বিকল্প নেই।

এই প্রেক্ষাপটে, ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের দর ব্যারেলপ্রতি $100 ছাড়িয়ে গেছে—যার ফলে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশে—এবং যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Exchange Rates 10.09.2026 analysis

চলমান যুদ্ধের ফলে ইরানের অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা বেশ বিস্ময়কর এবং তা দেশটির অনমনীয় মনোভাবকেই তুলে ধরে। অবরোধের ফলে দেশটি কার্যত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি ও অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির সক্ষমতা হারিয়েছে; দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং রিয়ালের মান দ্রুত কমছে।

এমন পরিস্থিতিতেও তেহরান কেন আলোচনায় বসছে না? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ইরানের নেতৃত্বের চিন্তাধারায়: তারা ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে চায়, যতক্ষণ না তারা নিশ্চিত হয় যে ভবিষ্যতে আক্রমণ চালানোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন বাড়তি সতর্ক বা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। যুদ্ধে দ্রুত 'জয়লাভ' করা তাদের মূল লক্ষ্য নয়, বরং তাঁরা এমন একটি নজির সৃষ্টি করতে চায় যা ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখবে—আর স্বভাবতই এ ধরনের কৌশলের কোনো চটজলদি সমাধান নেই।

গতকালকের ঘটনাপ্রবাহ থেকে বোঝা যায় বাস্তবে বিষয়টি কীভাবে ঘটছে। ওয়াশিংটন জানায় যে, ইরানি হামলা এড়াতে তাদের একটি যুদ্ধজাহাজকে কৌশলগত অংশ হিসেবে সরে যেতে হয়েছিল এবং এর জবাবে তারা আইআরজিসির পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংস করে। এরপর তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে প্রায় ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, মার্কিন নৌবাহিনীর আরও কয়েকটি জাহাজে আঘাত হানে এবং বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করে।

তবে হোয়াইট হাউসের অবস্থান তাদের নিজস্ব প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের চেয়ে ভিন্ন। বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেননি এবং বলেছিলেন যে যুদ্ধটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "আমার মনে হয় নির্বাচনের ঠিক পরেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে, কারণ তারা (ইরান) আর টিকতে পারবে না"—এখানে তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বোঝাচ্ছিলেন। অথচ ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন যে, বাড়তি চাপের মুখেও ইরান হয়তো নতি স্বীকার করবে না এবং এই সংঘাত ২০২৯ সালের জানুয়ারি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত চলতে পারে।

প্রকাশ্য বক্তব্য এবং অভ্যন্তরীণ পূর্বাভাসের মধ্যকার এই পার্থক্যকেই আমি দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে দেখছি। কয়েক সপ্তাহ বনাম তিন বছরের এই ব্যবধান ইঙ্গিত দেয় যে এই যুদ্ধের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে কোনো ঐক্যবদ্ধ ধারণা নেই; অথচ মার্কেটে মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টের আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকেই বিবেচনায় নিয়ে তেলের দাম নির্ধারিত হচ্ছে। সুতরাং ব্রেন্ট ক্রুডের ট্রেডারদের জন্য সরাসরি বার্তা হলো—চলমান যুদ্ধ দ্রুতই সমাপ্তির আশা করা উচিত নয় এবং জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সংকট অব্যাহত থাকবে। এর সাথে খার্গ দ্বীপের পরিস্থিতি এবং সেখানকার তেল লোডিং অবকাঠামোয় সম্ভাব্য আক্রমণের বিষয়টি যুক্ত করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে কেন তেলের দাম বর্তমানে এই পর্যায়ে রয়েছে।

আমি আশা করছি যে নভেম্বরের নির্বাচনের সময় পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের দর $100–$110 রেঞ্জের মধ্যেই থাকবে; কারণ বিবাদমান কোনো পক্ষেরই এখনই পিছু হটার বা ছাড় দেওয়ার মতো কোনো তাগিদ নেই। এছাড়া, নির্বাচনের পর যুদ্ধ শেষ হবে বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন, তা আসলে উল্টোভাবে বোঝা উচিত—অর্থাৎ, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনও মেনে নিয়েছে যে নির্বাচনের আগে এর কোনো সমাধান আসবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য এর অর্থ হলো, জ্বালানি-সংক্রান্ত এই ধাক্কাটি আর সাময়িক থাকছে না বরং দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। ফলে, ওয়ালার ও উইলিয়ামস সুদের হার বাড়ানোর প্রক্রিয়া সাময়িক স্থগিত রাখার পক্ষে যেসব যুক্তি দিয়েছিলেন, তা দুর্বল হয়ে পড়ছে; সংঘাত চলতে থাকলে সময়ের সাথে সাথে সেই যুক্তিগুলোর ভিত্তি আরও ক্ষয়ে যাবে।

Exchange Rates 10.09.2026 analysis

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $96.50-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $100.40-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $103.40 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $92.54-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $89.54 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $87.10 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

*এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ আপনার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রদান করা হয়, ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রদান করা হয় না।

বিশ্লেষকদের পরামর্শসমূহের উপকারিতা এখনি গ্রহণ করুন
ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করুন
ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলুন

ইন্সটাফরেক্স বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনাগুলো আপনাকে মার্কেট প্রবণতা সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন করবে! ইন্সটাফরেক্সের একজন গ্রাহক হওয়ায়, দক্ষ ট্রেডিং এর জন্য আপনাকে অনেক সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.