empty
 
 
bd
Support
Instant account opening
Trading Platform
Deposit/Withdraw

08.01.202608:10 ফরেক্স বিশ্লেষণ এবং পর্যালোচনা: GBP/USD পেয়ারের পর্যালোচনা, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

Exchange Rates 08.01.2026 analysis

বুধবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের তুলনামূলকভাবে দুর্বল ট্রেডিং কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়েছে, যা নির্ধারিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য ছিল। মনে করিয়ে দেওয়া ভালো যে, এ সপ্তাহে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও শ্রমবাজার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উৎপাদক মূল্য সূচক, মূল মুদ্রাস্ফীতি, সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি, এবং পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার মূল্য সূচক। বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদনের মধ্যে রয়েছে বেকারত্ব হার ও সাপ্তাহিক প্রাথমিক বেকারভাতা আবেদন। আর শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের মধ্যে রয়েছে JOLTS থেকে চাকরির শূন্যপদ, ADP থেকে বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান, এবং নন ফার্ম পেরোল সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। উপরোক্ত অধিকাংশ প্রতিবেদনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হবে।

এখানে আমরা যে বিষয়টি বোঝাতে চাচ্ছি তা একটু পরিষ্কার করা যাক—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার যথার্থভাবে মূল্যায়ন করা যায় কেবলমাত্র ভোক্তা মূল্য সূচকের মাধ্যমে। মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত বাকি অন্যান্য প্রতিবেদন মূলত মূল সূচকের সহ-সূচক। ঠিক তেমনি, বেকারত্ব পরিস্থিতি বিশ্লেষণের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক হলো বেকারত্ব হার। আর শ্রমবাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে সবচেয়ে প্রকৃত ও কার্যকরী তথ্য প্রদান করে ননফার্ম পেরোল প্রতিবেদন। এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে ADP থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ফলাফল প্রায়শই সঠিক তথ্য প্রতিফলিত করে না এবং মার্কিন শ্রমবাজারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতের পরিসংখ্যান অন্তর্ভুক্তই থাকে না। JOLTS থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন মূলত চাকরির শূন্যপদের সংখ্যা নির্দেশ করে, কিন্তু এতে মার্কিন জনগণের কর্মসংস্থানের বাস্তব পরিবর্তন প্রতিফলিত হয় না। তাছাড়া, এই প্রতিবেদন সাধারণত দুই মাস বিলম্বে প্রকাশিত হয়।

সুতরাং, কেবলমাত্র ননফার্ম পেরোল, বেকারত্ব হার, এবং ভোক্তা মূল্য সূচকের উপর ভিত্তি করে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব। এর মধ্যে প্রথম দুটি প্রতিবেদন শুক্রবার প্রকাশিত হবে, আর মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচক আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে।

এখন চলুন ফেডের সদস্যদের মতবিরোধের কথায় ফিরে যাই। এটিকে "আনুষ্ঠানিক মতবিরোধ" বলা হয় কেন? কারণ, কমিটির মাত্র তিনজন সদস্য—স্টিভেন মিরান, মিশেল বোম্যান এবং ক্রিস্টোফার ওয়ালার—মূল সুদের হার হ্রাস করার পক্ষে অবস্থান করছেন এবং এই তিনজনই, কোনো না কোনোভাবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ট্রাম্প বিগত এক বছর ধরেই ফেডারেল রিজার্ভের কাছে আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। অপরদিকে, ফেডের বাকি সদস্যরা ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে দুটি প্রধান ম্যান্ডেট—মূল্যস্থিতি ও পূর্ণ কর্মসংস্থান—এই দুই লক্ষ্যমাত্রার ব্যাপারে সমান গুরুত্ব প্রদান করছেন। ফলস্বরূপ, ফেডের ৯ জন ভোটার মূলত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফলের ভিত্তিতে সুদের হার পরিবর্তন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

যেহেতু 'ট্রাম্প সমর্থিত' এই তিনজন সদস্য ব্যালট প্রক্রিয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠ নন, তাই তাদের অবস্থান বর্তমানে কোনো কার্যকর প্রভাব ফেলছে না। আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে তাই বলাই যায়—এখানে প্রকৃত অর্থে কোনো স্বার্থের সংঘাত নেই। ফেডের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল গত ডিসেম্বরে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি 'বিরতি' দরকার। ফলে জানুয়ারিতে ফেডের আর্থিক নীতিমালায় বড় কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

তবে এর মানে এই নয় যে, শ্রমবাজার, বেকারত্ব এবং মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। বরং এই প্রতিবেদনগুলোর মাধ্যমেই ভবিষ্যত নীতিমালা সংক্রান্ত পরিবর্তনের ব্যাপারে ট্রেডারদের প্রত্যাশা বা পূর্বাভাস গঠিত হয়। এবং ট্রেডাররা চিরকালই আগেভাগে এই প্রত্যাশাগুলো 'মূল্যায়ন' করে নেয়, যাতে করে সর্বোচ্চ মুনাফা আদায় করা যায়।

এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ পাউন্ড চমৎকার প্রযুক্তিগত ও মৌলিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এটির মূল্যের আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা বজায় রয়েছে।

Exchange Rates 08.01.2026 analysis

গত পাঁচ দিনের ট্রেডিংয়ে GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের গড় ভোলাটিলিটি হচ্ছে ৮০ পয়েন্ট, যা ব্রিটিশ পাউন্ড/মার্কিন ডলার পেয়ারের জন্য "গড়" হিসেবে বিবেচনা করা যায়। সুতরাং, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি আমরা GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3393 এবং 1.3553 লেভেলের মধ্যে মুভমেন্ট প্রদর্শন করবে বলে প্রত্যাশা করছি। সিনিয়র লিনিয়ার রিগ্রেশন চ্যানেল ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে, যা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত কয়েক মাসে CCI ইনডিকেটর ছয়বার 'ওভারসোল্ড' জোনে প্রবেশ করেছে এবং একাধিক বুলিশ ডাইভারজেন্স গঠিত হয়েছে, যা ধারাবাহিকভাবে ট্রেডারদেরকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার বিষয়ে আগেভাগেই সতর্কবার্তা দিচ্ছে।

নিকটতম সাপোর্ট লেভেল:

S1 – 1.3428S2 – 1.3306S3 – 1.3184

নিকটতম রেজিস্ট্যান্স লেভেল:

R1 – 1.3550R2 – 1.3672R3 – 1.3794

ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:

GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য আবারও ২০২৫ সালে পরিলক্ষিত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছে এবং এই পেয়ারের মূল্যের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রাগুলো এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক গৃহীত নীতিমালা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে, তাই আমরা মার্কিন ডলারের শক্তিশালী মূল্য বৃদ্ধির আশা করছি না। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে যতক্ষণ মূল্য মুভিং অ্যাভারেজ লাইনের উপরে অবস্থান করছে ততক্ষণ GBP/USD পেয়ারে লং পজিশন ওপেন করা প্রাসঙ্গিক রয়ে যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3550 এবং 1.3672 লেভেলের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য মুভিং অ্যাভারেজ লাইনের নিচে চলে আসে, তাহলে টেকনিকাল প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে মূল্যের 1.3393 লেভেলের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারে। মাঝেমধ্যে বৈশ্বিক পর্যায়ে মার্কিন ডলারের মূল্য কিছু কারেকশনাল মুভমেন্ট প্রদর্শন করে থাকে, তবে প্রবণতা-ভিত্তিক শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির জন্য বাণিজ্যযুদ্ধের অবসান বা অন্য কোনো বৈশ্বিক ইতিবাচক ঘটনার লক্ষণ স্পষ্টভাবে উদ্ভূত হতে হবে।

চিত্রের ব্যাখা:

  • লিনিয়ার রিগ্রেশন চ্যানেল: এই চ্যানেলগুলো চলমান প্রবণতা শনাক্ত করতে সাহায্য করে। যদি উভয় লাইন একই দিকে যায়, তাহলে সক্রিয় প্রবণতা শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হয়।
  • মুভিং এভারেজ (সেটিংস: 20,0, স্মুথেদ): এটি মুলত স্বল্পমেয়াদী প্রবণতা নির্ধারণ করতে সহায়তা করে এবং এই ভিত্তিতে ট্রেডিংয়ের বর্তমান দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়।
  • মারে লেভেল: এগুলো মূলত মূল্যের মুভমেন্ট ও কারেকশনের জন্য লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে।
  • ভোলাট্যালিটি লেভেল (লাল লাইন দ্বারা চিহ্নিত): কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের সম্ভাব্য চ্যানেল নির্ধারণ করে, যেখানে আগামী ২৪ ঘণ্টা ধরে বর্তমান ভোলাটিলিটির ভিত্তিতে ট্রেড হতে পারে।
  • CCI ইন্ডিকেটর: যখন এটি ওভারসোল্ড (–250-এর নিচে) বা ওভারবট (+250-এর উপরে) জোনে প্রবেশ করে, তখন এটি সম্ভাব্য ট্রেন্ড রিভার্সালের সংকেত দেয়। এই সংকেত সাধারণত বর্তমান প্রবণতার বিপরীত গতিপথে মুভমেন্টের পূর্বাভাস দেয়।

*এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ আপনার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রদান করা হয়, ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রদান করা হয় না।

বিশ্লেষকদের পরামর্শসমূহের উপকারিতা এখনি গ্রহণ করুন
ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করুন
ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলুন

ইন্সটাফরেক্স বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনাগুলো আপনাকে মার্কেট প্রবণতা সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন করবে! ইন্সটাফরেক্সের একজন গ্রাহক হওয়ায়, দক্ষ ট্রেডিং এর জন্য আপনাকে অনেক সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.